আজকের দিনে অফিসের কাজ থেকে শুরু করে পড়াশোনা, এমনকি বিনোদনের জন্যও ল্যাপটপ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু অনেকেরই অভিযোগ ল্যাপটপের ব্যাটারি আগের মতো চার্জ ধরে না। চার্জ দিতে না দিতেই আবার কমে আসে, ফলে কাজের সময় বারবার চার্জার খুঁজতে হয়।
ল্যাপটপে ব্যবহৃত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিগুলো আসলে দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে। তবে ব্যবহারকারীরা কিছু সাধারণ ভুল করে থাকেন, যা ধীরে ধীরে ব্যাটারির ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ভুলগুলো খুবই ছোট, কিন্তু নিয়মিত হলে ব্যাটারির আয়ু অনেকটাই কমে যায়।
চলুন জেনে নিই, ল্যাপটপ ব্যবহারকারীরা কোন ৬টি সাধারণ ভুল বেশি করেন এবং এর ফলে ব্যাটারির ক্ষতি হয়।
১. সব সময় চার্জে লাগানো রাখা
অনেকে মনে করেন ল্যাপটপ সবসময় চার্জে লাগিয়ে রাখলে সমস্যা নেই। বরং এতে ব্যাটারি পুরোপুরি চার্জ থাকে। কিন্তু আসলে বিষয়টা উল্টো। চার্জে লাগানো অবস্থায় ল্যাপটপ ব্যবহার করলে ব্যাটারির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। ধীরে ধীরে ব্যাটারির কোষ দুর্বল হয়ে যায় এবং চার্জ ধরে রাখার ক্ষমতা কমে আসে।
👉 সমাধান: চার্জ ২০ শতাংশে নেমে এলে চার্জার লাগান এবং ব্যাটারি ৮০–৯০ শতাংশ পূর্ণ হলে চার্জার খুলে ফেলুন। সব সময় ১০০ শতাংশ চার্জ দিয়ে রাখা ব্যাটারির জন্য ক্ষতিকর।
২. আসল চার্জারের বদলে অন্য চার্জার ব্যবহার
অনেক সময় আসল চার্জার নষ্ট হয়ে গেলে বা হারিয়ে গেলে ব্যবহারকারীরা সস্তা চার্জার কিনে নেন। এসব চার্জার অনেক সময় সঠিক ভোল্টেজ দিতে পারে না। ফলে ব্যাটারির কোষে সমস্যা হয় এবং দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনকি নকল চার্জার আগুন লাগার ঝুঁকিও তৈরি করে।
👉 সমাধান: ল্যাপটপের জন্য সবসময় সেই ব্র্যান্ডের আসল চার্জার ব্যবহার করুন। দাম বেশি হলেও এটি ব্যাটারির জন্য নিরাপদ।
৩. ল্যাপটপ নরম জায়গায় ব্যবহার করা
আমরা অনেকেই বিছানায় শুয়ে বা কম্বলের ওপর ল্যাপটপ চালাই। এতে কুলিং ফ্যান ঠিকমতো কাজ করতে পারে না, কারণ বাতাস বের হওয়ার পথ আটকে যায়। ফলে ল্যাপটপ দ্রুত গরম হয়ে যায়। আর তাপ হলো ব্যাটারির সবচেয়ে বড় শত্রু। ব্যাটারি যত বেশি গরম হয়, তত দ্রুত তার ক্ষমতা কমে যায়।
👉 সমাধান: সবসময় ল্যাপটপ শক্ত, সমতল জায়গায় ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে কুলিং প্যাড ব্যবহার করতে পারেন।
৪. পাওয়ার সেভার মোড ব্যবহার না করা
ল্যাপটপে পাওয়ার সেভার মোড থাকে, যা চার্জ কম খরচ করতে সাহায্য করে। কিন্তু অনেকেই এ মোড ব্যবহার করেন না। ফলে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ও ফিচার চালু থেকে যায় এবং ব্যাটারির চার্জ দ্রুত ফুরিয়ে যায়। বারবার চার্জ দিলে ব্যাটারির আয়ু দ্রুত কমে যায়।
👉 সমাধান: কাজের ধরন অনুযায়ী সবসময় পাওয়ার সেভার বা ব্যাটারি সেভার মোড চালু রাখুন। এতে চার্জ অনেকক্ষণ টিকবে এবং ব্যাটারির চাপও কমবে।
৫. চার্জ পুরোপুরি শেষ করা
কেউ কেউ অভ্যাসবশত ব্যাটারির চার্জ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ল্যাপটপ ব্যবহার করেন। কিন্তু প্রতিবার ব্যাটারি শূন্যে নামিয়ে দিলে ব্যাটারির কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে ব্যাটারির আয়ু কমে যায় এবং কয়েক মাস পরই টের পাওয়া যায় ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।
👉 সমাধান: কখনোই ল্যাপটপের চার্জ ০% হতে দেবেন না। ব্যাটারি ১৫–২০ শতাংশে নামলেই চার্জ দিন। এতে ব্যাটারি অনেকদিন ভালো থাকবে।
৬. সফটওয়্যার ও সিস্টেম আপডেট না করা
ল্যাপটপের অপারেটিং সিস্টেম ও ড্রাইভার নিয়মিত আপডেট করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই শুধু প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার আপডেট করেন, কিন্তু সিস্টেম আপডেট করেন না। অথচ আপডেটের মাধ্যমে ব্যাটারির ব্যবহার আরও কার্যকর হয়। পুরোনো সিস্টেম ব্যাটারিকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে চাপ দেয়।
👉 সমাধান: নিয়মিত সিস্টেম ও ড্রাইভার আপডেট করুন। এতে ল্যাপটপের কার্যকারিতা বাড়বে এবং ব্যাটারিও সঠিকভাবে ব্যবহার হবে।
অতিরিক্ত কিছু ভুল যা এড়িয়ে চলা উচিত
-
ল্যাপটপকে বেশি গরম পরিবেশে রাখা।
-
দীর্ঘ সময় ধরে গেম খেলা বা ভারী সফটওয়্যার ব্যবহার করা।
-
ব্যাটারি খুলে রেখে ল্যাপটপ চালানো।
-
চার্জার সবসময় প্লাগে লাগানো রাখা।
এসব অভ্যাসও ধীরে ধীরে ব্যাটারির ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
ল্যাপটপের ব্যাটারি নষ্ট হওয়ার জন্য কোনো বড় কারণ নয়, বরং দৈনন্দিন ছোট ছোট ভুলই দায়ী। যেমন সবসময় চার্জে লাগানো রাখা, নকল চার্জার ব্যবহার, বিছানায় ল্যাপটপ চালানো, পাওয়ার সেভার ব্যবহার না করা, চার্জ পুরোপুরি শেষ করে ফেলা আর সিস্টেম আপডেট না করা এসবই ব্যাটারির সবচেয়ে বড় শত্রু।
তবে সুখবর হলো, এসব অভ্যাস একটু বদলালেই ল্যাপটপের ব্যাটারি দীর্ঘদিন ভালো থাকবে। মনে রাখবেন, ব্যাটারি শুধু চার্জের উৎস নয় এটাই আপনার ল্যাপটপকে চলমান রাখে। তাই ব্যাটারির যত্ন নিন, তাহলেই আপনার ল্যাপটপ দীর্ঘদিন নির্ভরযোগ্য সঙ্গী হয়ে থাকবে।
