পরিচিতি ও ব্র্যান্ড ট্রাস্ট
Samsung দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ব্র্যান্ড। বাড়িতে, কাজের জায়গায়, মিডিয়া বিজ্ঞাপনে, স্মার্টফোন ও টেলিভিশন, হোম অ্যাপ্লায়েন্স প্রায় সব জায়গায় Samsung-কে মানুষ জানে ও বিশ্বাস করে। Samsung-এর after-sales সাপোর্ট সাধারণত তুলনামূলক ভালো বলা হয়; সার্ভিস সেন্টার, যন্ত্রাংশ পাওয়া সহজ এগুলো সবই ট্রাস্ট বাড়ায়। Samsung Global Top 5 ব্র্যান্ডের মধ্যে রয়েছে, এবং তাঁদের ব্র্যান্ড ভ্যালু ২০২৪ সালে প্রায় $100.8 বিলিয়ন ছিল।
Xiaomi আপাতদৃষ্টিতে নতুন, তবে দ্রুতি অর্জন করছে। বাজেট ফোন ও মিড-রেঞ্জ মোডেলে মানুষের কাছে ভালো ফিচার অফার করে; “মূল্য-উপযোগিতা (value-for-money)” এ Xiaomi অনেক ক্ষেত্রে Samsung-কে টেক্কা দিচ্ছে। তবে সার্ভিস নেটওয়ার্ক, ব্র্যান্ড রিকগনিশন এবং কিছু ক্ষেত্রে বিশ্বাস – এসব Samsung এর চেয়ে কিছুটা কম।
বাজার শেয়ার (Market Share)
বাংলাদেশে স্মার্টফোন বাজারে যেহেতু বিক্রিও একটি বড় মাপকাঠি তার উপরেও অনেক কিছু নির্ভর করে।
Statcounter অনুসারে, আগস্ট ২০২৫-এ স্মার্টফোন_VENDOR Market Share-এ Xiaomi প্রায় 18.02%, Samsung প্রায় 17.46% ছিল।
আরেকটি রিপোর্ট বলে যে ২০২৫ সালে মোবাইলদোকান নামক উৎস অনুযায়ী Xiaomi বাংলাদেশের মোবাইল মার্কেটে শীর্ষে অবস্থান করছে ≈ ১৮.৫৬% শেয়ার নিয়ে, আর Samsung দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ≈ ১৭.৪৫% শেয়ারে।
এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, বাজার শেয়ার এর দিক থেকে Xiaomi সাম্প্রতিক সময়ে Samsung কে সামান্য পিছনে ফেলেছে বা প্রায় সমান অবস্থানে আছে।
প্রোডাক্ট পোর্টফোলিও ও বৈচিত্র্য
Samsung এর পোর্টফোলিও খুব বিস্তৃত বাজেট থেকে শুরু করে ফ্ল্যাগশিপ, স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, টিভি, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন ইত্যাদিতে রয়েছে তাদের অবদান। ফ্ল্যাগশিপ ডিজাইন, কেমেরা পারফরম্যান্স, ডিসপ্লে কোয়ালিটি, ফিচার-সাপোর্ট, সফটওয়্যার আপডেট সবই ভালো।
Xiaomi ও তার সাব-ব্র্যান্ডগুলি (Redmi, Poco) মূলত বাজেট ও মিড-রেঞ্জ সেগমেন্টে বেশি সক্রিয়। অনেক ফিচার পাওয়া যায় যা আগে উচ্চ মূল্যের স্মার্টফোনে পাওয়ার কথা ছিল উচ্চ রেজোলিউশন ক্যামেরা, ব্যাটারি ক্ষমতা, দ্রুত চার্জিং, এ ধরনের ফিচার। তবে ফ্ল্যাগশিপ স্তরে Samsung-এর ওয়ারেন্টি, সফটওয়্যার আপডেট, ব্র্যান্ড প্রিমিয়াম ও ডিসপ্লে-গুণমান ইত্যাদিতে বেশ কিছু ব্যবহারকারী এখনও Samsung-কে শ্রেয় মনে করেন।
মূল্য এবং সার্ভিস নেটওয়ার্ক
বাজেট-প্রতি সংবেদনশীল বাজারে, দাম একটি বড় ফ্যাক্টর। Xiaomi সাধারণত কম দাম দিয়ে বেশি ফিচার দেয়, যা অনেকের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
তবে, দামের পাশাপাশি সার্ভিস সেন্টার ও রপ্তানি অংশ পাওয়া সহজ হওয়া দরকার। Samsung-এর সার্ভিস নেটওয়ার্ক বেশি বিস্তৃত; যন্ত্রাংশ ও রিপেয়ার সুবিধা অনেক জায়গায় পাওয়া যায়। Xiaomi যদিও দ্রুত সার্ভিস নেটওয়ার্ক বাড়াচ্ছে, সবক্ষেত্রে Samsung-এর সার্ভিস অফিস ও আসল যন্ত্রাংশের বিষয়টি কিছুটা পিছিয়ে থাকতে পারে।
ব্র্যান্ড ভ্যালু (বিশ্বব্যাপী ও স্থানীয় প্রেক্ষাপটে)
বিশ্বব্যাপী হিসাবে, Samsung-এর ব্র্যান্ড ভ্যালু উল্লেখযোগ্য এবং স্বীকৃত। যেমন, Samsung ২০২৪-এ Interbrand বা অন্যান্য ব্র্যান্ড ভ্যালু র্যাংকিংয়ে Top-5 এ ছিল; তাঁদের মূল্য প্রায় $100.8 বিলিয়ন।
Xiaomi-র বিশ্ব ব্র্যান্ড মূল্যও বড়, তবে Samsung-এর চেয়ে এখনও কম।
বাংলাদেশের অংশে “ব্র্যান্ড ভ্যালু” বলতে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক মূল্য বোঝায় না, বরং মানুষের মনে জায়গা পাওয়া, নির্ভরশীলতা, বিশ্বাস, সার্ভিস অভিজ্ঞতা এই সব মিলিয়ে হিসাব রাখা উচিত।
সারাংশ: কোনটির ব্র্যান্ড ভ্যালু বেশি বাংলাদেশে?
সব দিক মিলিয়ে বললে, Samsung বাংলাদেশে এখনও সামগ্রিকভাবে Xiaomi-এর চেয়ে ব্র্যান্ড ভ্যালু বেশি ধরে রাখছে, বিশেষ করে প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড হিসাবে, সার্ভিসের দিক থেকে ও ব্র্যান্ড ট্রাস্টের ক্ষেত্রে।
তবে বাজার শেয়ার ও বাজেট-গ্রাহক দৃষ্টিকোণ থেকে Xiaomi দ্রুত বাড়ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে সবচেয়ে “মূল্য-মিলিয়ে” অপশন হিসেবে সম্মান অর্জন করেছে। স্মার্টফোন বাজারে Xiaomi ইতিমধ্যে Samsung-কে সামান্য ও প্রায় সমান পর্যায়ে টেনে এনেছে।
যদি “ব্র্যান্ড ভ্যালু” বলতে বোঝায় পুরো ব্র্যান্ড মান, ট্রাস্ট, after-sales সাপোর্ট, প্রিমিয়াম ইমেজ তখন Samsung বেশি শক্তিশালী বাংলাদেশে।
যদি “ব্র্যান্ড ভ্যালু” বলতে বোঝায় বাজার শেয়ার, ব্যবহারকারীর মূল্য অনুমান (price perception), বাজেট ও মিড-রেঞ্জ-গ্রাহকদের পছন্দ তখন Xiaomi দ্রুত এগিয়ে আসছে, এবং কিছু ক্ষেত্রেই Samsung-কে ছাপিয়ে দিচ্ছে।
আপনি যদি চান, একটি তুলনামূলক গবেষণাপত্র তৈরি করতে পারি যেখানে গ্রাহক সমীক্ষার ডেটা, বিক্রয় পরিসংখ্যান, after-sales অভিজ্ঞতা সব মেলানো হবে তখন আরও নির্ভুল উত্তর দেওয়া যাবে। বিস্তারিত চান?
