একসময় Samsung J-সিরিজের একজন ব্যবহারকারী হিসেবে M-সিরিজে আসা আমার জন্য একটু নস্টালজিক অভিজ্ঞতা ছিল। বাজেট স্মার্টফোনে প্রতিযোগিতা সবসময়ই কঠিন। কম দামে বেশি ফিচার এই দৌড়ে প্রতিটি ব্র্যান্ডই নিজেদের সেরা বানাতে চেষ্টা করে। এই ভিড়ে Samsung M17 বেশ শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। বড় ডিসপ্লে, ভালো ব্যাটারি, গ্রহণযোগ্য পারফরম্যান্স সাধারণ ব্যবহারকারীর প্রয়োজনগুলোর সাথেই এটি সবচেয়ে বেশি মিলে।

ফোনটি কিছুদিন ব্যবহার করে যা বুঝলাম এর কিছু দারুণ দিক আছে, আবার কিছু জায়গায় কমতিও রয়েছে। ডিজাইন থেকে ক্যামেরা, ব্যাটারি থেকে পারফরম্যান্স সব দিক নিয়ে নিচে বিশদ অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হলো।

ডিজাইন ও ডিসপ্লে

Samsung M17-এর ডিজাইন প্রথম দেখাতেই স্লিক ও সরু মনে হবে। 16.91 সেমি বড় ডিসপ্লে থাকার পরও ফোনটি খুব ভারী লাগে না। তবু একটি বিষয় চোখে পড়ে টিয়ারড্রপ নচ আর মোটা বেজেল। ২০২৫ সালে এগুলো নিশ্চয়ই কিছুটা পুরোনো স্টাইলের মনে হবে। তবে ফোনটির ম্যাট ফিনিশ মেটাল বডি একেবারে সরল, পরিষ্কার এবং মিনিমালিস্ট লুক এনে দিয়েছে।

একটি ছোট সমস্যা রয়েছে USB-C পোর্টটি একদম সমানভাবে বসানো হয়নি, যা চোখে পড়লে একটু বিরক্ত লাগতে পারে। তবে ডিসপ্লে সেই বিরক্তি দূর করে দেয়। AMOLED স্ক্রিন বাজেট ফোনে এখনো দুর্লভ এবং M17-এর ডিসপ্লে সত্যিই চোখে লাগার মতো উজ্জ্বল ও রঙিন। স্ক্রিনগার্ড ছাড়া ফোন দেওয়া হলেও Gorilla Glass ভালোভাবেই সুরক্ষা দিয়েছে। রোদে স্ক্রিন দেখা নিয়েও কোনো সমস্যা হয়নি যা বাজেট ফোনের জন্য বাড়তি প্লাস পয়েন্ট।

ব্যাটারি ব্যাকআপ

বাজেট ফোন বাছাইয়ের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ব্যাটারি কেমন?

Samsung দাবি করেছে, ফোনটি ১৮ ঘণ্টা ভিডিও প্লেব্যাক দিতে পারে। আমার টানা ব্যবহারে The Sopranos সিরিজের পুরো সিজন আর কয়েক ঘণ্টা YouTube দেখার পর মোটামুটি ১৫ ঘণ্টা স্ক্রিন-টাইম পেয়েছি। এটি সত্যিই প্রশংসনীয়।

তবে বাক্সে চার্জার দেওয়া হয়নি, যা অনেকের জন্য অসুবিধা হতে পারে। চার্জিং স্পিডও গড়পড়তা।

পারফরম্যান্স

Exynos 1330 চিপসেট বাজেট রেঞ্জে ভালোই কাজ করে। ভারী গেমিংয়ের সময় কিছু ল্যাগ বা চপিনেস চোখে পড়েছে, তবে সাধারণ মাল্টিটাস্কিং, ভিডিও দেখা বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্রাউজিংয়ে কোনো সমস্যা হয়নি।

ফোনটিতে OneUI 7 প্রি-ইনস্টলড ছিল, যা বেশ স্মুথ, অ্যানিমেশন ভালো এবং Google AI ফিচারগুলোও ঠিকমতো কাজ করেছে।

যারা হালকা গেম খেলে তাদের জন্য Hill Climb Racing বা এর মতো গেমগুলো কোনো ঝামেলা ছাড়াই চমৎকার চলবে। তবে হাই-এন্ড গেমে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকবেই।

স্পিকারের ক্ষেত্রেও বিশেষ কিছু নেই একটি সিঙ্গেল স্পিকার দেওয়া হয়েছে, যা খুব বেশি লাউড বা বেস-হেভি নয়।

তবে সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো Samsung এই মডেলের জন্য ৬ বছর সফটওয়্যার ও সিকিউরিটি আপডেট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বাজেট ফোনে এই সুবিধা খুবই বিরল।

ক্যামেরা

Samsung M17-এ রয়েছে:

• ৫০ MP OIS মেইন ক্যামেরা
• ৫ MP আলট্রাওয়াইড
• ২ MP ম্যাক্রো

প্রাইমারি ক্যামেরাটি বেশ ভালো। রঙ, ডিটেইলস ও ডায়নামিক রেঞ্জ গ্রহণযোগ্য। OIS থাকার কারণে হাতে ধরে শট নিলেও ফুটেজ বেশ স্থির থাকে। সমুদ্রতটে দৌড়ে শুট করা ভিডিওটিও মসৃণ লেগেছে।

আলট্রাওয়াইড ও ম্যাক্রো লেন্সগুলো খুব শক্তিশালী নয়। দিন আলোতে ছবি ভালো আসে, কিন্তু নাইট মোড তেমন কার্যকর নয়। ফ্রন্ট ক্যামেরায় ডিটেইলস কম ধরা পড়ে, আর শটে গ্রেইনিও দেখা যায়।

উপসংহার

Samsung M17 বাজেট রেঞ্জে বেশ সুন্দর একটি ভারসাম্য তৈরি করেছে। বড় AMOLED ডিসপ্লে, দীর্ঘ ব্যাটারি, গ্রহণযোগ্য পারফরম্যান্স সব মিলিয়ে যাকে বলা যায় একটি ব্যালান্সড প্যাকেজ। কিছু কমতি আছে যেমন পুরোনো ডিজাইন, সিঙ্গেল স্পিকার, মাঝারি সেলফি ক্যামেরা। তবে দামের তুলনায় এটি প্রতিযোগিতামূলক।

যারা বড় ডিসপ্লে, শক্ত ব্যাটারি আর Samsung ব্র্যান্ডের নির্ভরতা চান, তাদের জন্য M17 একটি ভালো বাজেট পছন্দ হতে পারে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version