প্রতিটি F-35 হেলমেট প্রায় $400,000 (~৪ লক্ষ মার্কিন ডলার) এইটা সত্যিই চমকে দেওয়ার মতো। নিচে  পয়েন্টগুলোকে আরও প্রযুক্তিগত ও বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করছি, প্রতিটি প্রধান কথার পাশে ওয়েব উৎসও দিলাম যাতে আপনি চাইলে ঘেঁটে দেখেন।

সংক্ষিপ্ত পরিচয় (কি ধরনের ডিভাইস)-

F-35-এর হেলমেটটি সাধারণ ‘কেবিনি হেলমেট’ না  এটি Gen III Helmet-Mounted Display System (HMDS)। এটি কেবল মাথা রক্ষা করে না; বরং পাইলটের প্রধান ডিসপ্লে, টার্গেটিং ইন্টারফেস এবং সেন্সর-ফিউজড ভিউ সবই হেলমেটের ভিসরে প্রজেক্ট করে।

মূল বৈশিষ্ট্যগুলো  বিস্তারিত ব্যাখ্যা-

১) Distributed Aperture System (DAS) – বাইরের ৬টি ক্যামেরা

F-35-এর বডিতে মোট ৬টি স্ট্যারিং ইনফ্রারেড/ইলেক্ট্রো-অপটিক সেন্সর মাউন্ট করা থাকে (AN/AAQ-37 বা Raytheon EODAS রূপ)। এগুলো ৩৬০° কভারেজ দিয়ে বিমানের চারদিকে স্থির ইমেজ/ইনফ্রারেড তথ্য পাঠায়।

হেলমেটের ভিসর-এ এই ক্যামেরাগুলোর ফিড একত্রে স্টিচ করে “বিমান অদৃশ্য” এর ব্যহার তৈরি করে  পাইলট মাথা ঘুরালেই সেই দিকের বাইরের দৃশ্য দেখায়; নিচের দিকে তাকালে বিমানের নিচে যা আছে তাই দেখা যায়।

২) Head-up / Helmet-projected symbology (HUD on visor)

HMDS-এর ভিসর একটি উচ্চ-রেজোলিউশনের বায়োকুলার (দুবাইন) প্রদর্শনী; এখানে এয়ারস্পিড, উচ্চতা, হেডিং, কপাস, টার্গেট আইডেন্টিটি/ডিস্ট্যান্স, রাডার অ্যালার্ট ইত্যাদি সরাসরি প্রজেক্ট হয়। ফলে পাইলটকে আলাদা কন্সোল বা স্ক্রিনে তাকাতে হয় না  “এর মাধ্যমে হেড-ওয়ান, আই-অফ-টাস্ক” ইন্টারফেস বাস্তবায়িত হয়।

৩) বিল্ট-ইন নাইট-ভিশন (Integrated night vision)

DAS-এর ইনফ্রারেড ফিড ও হেলমেটের নিজস্ব বাড়তি NV ক্যামেরা মিলিয়ে হেলমেট রাতের/কম-লাইট দৃশ্য সরবরাহ করে, ফলে আলাদা NVG (গগল) টানার প্রয়োজন কমে যায়। তবে গবেষণা/রিপোর্টে বলা হয় DAS-এর রাতের দৃশ্য (night acuity) কখনো কখনো প্রচলিত NVG-এর সমান নয়  সেজন্য হেলমেটের ইম্বেডেড NV ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়।

৪) Eye-tracking ও লুক-টু-অেম (Look-to-target) লকিং

হেলমেটে আই-ট্র্যাকিং সেন্সর থাকে; পাইলট যখন কোনো বস্তুনির্দেশে তাকায়, সিস্টেম তা সনাক্ত করে এবং টার্গেট-কিউ/লকিং চালু করতে পারে। ফলে “মাঠে চোখ = aiming” ধাঁচের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সম্ভব  পাইলটকে আলাদা করে ক্রস-হেয়ারের মধ্যে কৌঁচতে হয়নি।

৫) Sensor fusion  সব সেন্সরের তথ্য একত্রে

হেলমেট কেবল ক্যামেরার ছবি নয়; রাডার, DAS (IR), EOTS, ফ্লাইট-অ্যাভিয়নিক্স, টার্গেট-ট্র্যাকিং ডেটা  এগুলোকে রিয়েল-টাইমে মিলিয়ে একটি সম্মিলিত কনসোল (ভিস্যুয়াল-ক্লিন্ট) তৈরি করে, যাতে পাইলটকে ৩৬০° ভাবনা-চিত্র (tactical battlespace) দেয়া যায়। ফলে দূরন্ত সিদ্ধান্ত দ্রুত নেয়া যায়।

৬) কাস্টম-ফিটিং ও ক্যালিব্রেশন

প্রতিটি হেলমেট প্রতিটি পাইলটের মাথার আকার অনুযায়ী কাস্টম-ইনসার্ট (3D স্ক্যানিং/মোল্ড) করে বানানো হয় ইন­টার-পুপিলার ডিস্ট্যান্স (IPD), চোখ-টু- visor দূরত্ব, সেন্সরের অবস্থান সব ক্যালিব্রেট করা লাগে। ক্যালিব্রেশন ছাড়া আই-ট্র্যাকিং ও হেড-ট্র্যাকিং ঠিকভাবে কাজ করবে না।

৭) অন্যান্য হ্যার্ডওয়্যার/সফটওয়্যার উপাদান

ইন-বিল্ট কম্পিউটিং ইউনিট (সিগন্যাল প্রসেসিং, রেন্ডারিং), ইমার্জেন্সি-কাট-অফ/সেফটি-হ্যান্ডলিং, নয়েজ-রিডাকশন হেডফোন ও অক্সিজেন-ইন্টারফেস, এবং উচ্চ-ব্রাইটনেস/কনট্রাস্ট ভিসর অপটিক্স। HMDS-এর ভার্সনগুলো, FOV (প্রতিটি চোখের ~40°×30° biocular claim) ইত্যাদি টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন আছে।

অপারেশনাল/প্রায়োগিক দিক বাস্তব জ্ঞান

হেলমেটই পাইলটের প্রধান অপারেটিং ডিসপ্লে: একে কেবল “অ্যাডঅন” ধরে নয়; F-35-এ ককপিট ডিজাইন HMDS-কে কেন্দ্র করে করা। তাই হেলমেটের ব্যর্থতা পুরো মিশনকে প্রভাবিত করতে পারে  এজন্য রিডান্সি, সফটওয়্যার আপডেট ও নিয়মিত ক্যালিব্রেশন জরুরি।

লোট-টু-লোট উন্নয়ন: হেলমেট সিস্টেম ও DAS-এর মডিউলগুলো সময়ের সঙ্গে আপডেট হচ্ছে  সেন্সর নির্মাতার বদল, সফটওয়্যার টিউনিং ইত্যাদি। ফলে সাম্প্রতিক বিবরণ জানতে নির্মাতার রিলিজ দেখলে ভাল হয়।

সীমাবদ্ধতা ও সতর্কতা

খরচ: প্রতি ইউনিট ≈ $400k -তাই রক্ষণাবেক্ষণ ও রিপ্লেসমেন্ট খরচও বেশি। এটি কেনার সময় ও অপারেটিং বাজেটে বড় ফ্যাক্টর।

বার্ড-স্ট্রাইক/ইনপ্যাক্ট রিস্ক: যে হেলমেটটিতে ভারি ইলেকট্রনিক্স আছে, সেটির কাঠামো ও সেফটি ক্র্যাশ/ইমার্জেন্সি অবস্থায় আলাদা বিবেচ্য।

রাতের দৃশ্য সম্পর্কিত সীমা: DAS-এর ইমেজ কখনো NVG-এর মতো কনট্রাস্ট/রিসোলিউশন নাও দিতে পারে এজন্যে হেলমেট নিজস্ব NV ক্যামেরা রাখে; কিছু পরিস্থিতিতে পাইলটরা NVG-এর অভ্যাসের তুলনায় ভিন্ন অনুভব পেতে পারেন।

সংক্ষেপে  পয়েন্টগুলো (তথ্যগত ক্ষমতাসহ)

1. বাইরের ৬ ক্যামেরা (DAS) → হাঁ, আছে ও 360° ইমেজ দেয়।

2. সব তথ্য ভিসরে (HUD) → হাঁ, HMDS-ই পাইলটের প্রধান HUD।

3. বিল্ট-ইন নাইট-ভিশন → আছে (DAS+ইম্বেডেড NV ক্যামেরা)।

4. চোখ যেদিকে তাকায় অস্ত্র তাকায় (Eye-tracking) → আছে; look-to-lock ফিচার বাস্তবে ব্যবহার করা হয়।

5. সেন্সর ফিউশন → রিয়েল-টাইম ফিউশন; পাইলটকে ট্যাকটিক্যাল 3D ছবি দেয়।

6. কাস্টম-ফিটিং → প্রতিটি হেলমেট কাস্টম কাষ্টিং ও ক্যালিব্রেটেড হয়।

 

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version