অনেকেই কাজের চাপ বা সুবিধার কথা ভেবে দিনের পর দিন ল্যাপটপ বন্ধ না করে ব্যবহার করেন। কেউ শুধু ঢাকনা নামিয়ে রাখেন, কেউ আবার স্লিপ মোডে রেখে দেন। এতে কাজ চালানো সহজ মনে হলেও বাস্তবে এটি ল্যাপটপের জন্য মোটেও ভালো অভ্যাস নয়। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ শাটডাউন বা রিস্টার্ট না করলে ধীরে ধীরে এর কর্মক্ষমতা কমে যায় এবং নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
ল্যাপটপ ধীর হয়ে যায়
ল্যাপটপ দীর্ঘ সময় চালু থাকলে অনেক সিস্টেম প্রক্রিয়া ও অ্যাপ নেপথ্যে চলতেই থাকে। সময়ের সঙ্গে এসব প্রক্রিয়া জমে গিয়ে প্রসেসর ও র্যামের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। ফলে সাধারণ কাজ যেমন-ফাইল খোলা, ব্রাউজার চালু করা বা কোনো অ্যাপ ওপেন করতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগে। ব্যবহারকারীরা তখন ল্যাপটপের ধীরগতির কারণে বিরক্ত হন।
মেমোরি ঠিকভাবে কাজ করে না
নিয়মিত শাটডাউন বা রিস্টার্ট না করলে র্যাম পুরোপুরি রিফ্রেশ হয় না। এর ফলে দীর্ঘ সময় ব্যবহারের পর ল্যাপটপ হঠাৎ হ্যাং হয়ে যেতে পারে কিংবা কোনো অ্যাপ নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অনেক সময় কাজ করার মাঝেই স্ক্রিন ফ্রিজ হয়ে যায়, যা খুবই বিরক্তিকর। এসব সমস্যার মূল কারণ অনেক ক্ষেত্রে রিস্টার্ট দিলেই ঠিক হয়ে যায়।
সফটওয়্যার আপডেট আটকে থাকে
অপারেটিং সিস্টেম ও নিরাপত্তা–সংক্রান্ত বেশির ভাগ আপডেট কার্যকর করতে রিস্টার্ট প্রয়োজন হয়। কিন্তু ল্যাপটপ যদি দিনের পর দিন বন্ধ না করা হয়, তাহলে আপডেটগুলো ইনস্টল না হয়ে অপেক্ষমাণ অবস্থায় থেকে যায়। এতে ল্যাপটপ নতুন ফিচার ও গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা প্যাচ থেকে বঞ্চিত হয়। ফলে ভাইরাস বা সাইবার আক্রমণের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
ব্যাটারির ওপর চাপ পড়ে
একটানা চালু থাকা ল্যাপটপে ভেতরের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। বিশেষ করে চার্জারে লাগানো অবস্থায় দীর্ঘ সময় চালু রাখলে ব্যাটারির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। প্রযুক্তিবিদদের মতে, এ ধরনের অভ্যাস ব্যাটারির চার্জ ধরে রাখার ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। ফলে কিছুদিন পর দেখা যায়, আগে যেখানে ব্যাটারি কয়েক ঘণ্টা চলত, এখন সেখানে দ্রুত চার্জ শেষ হয়ে যাচ্ছে।
অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ নেপথ্যে চালু থাকে
অনেক অ্যাপ ব্যবহার না করলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু থাকে। এসব অ্যাপ প্রসেসর, র্যাম এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করে। নিয়মিত রিস্টার্ট না দিলে এই অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো বন্ধ হয় না এবং ল্যাপটপের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে বিদ্যুৎ খরচও কিছুটা বেড়ে যায়।
অতিরিক্ত তাপ তৈরি হয়
ল্যাপটপ দীর্ঘ সময় চালু থাকলে ভেতরের যন্ত্রাংশে তাপ জমে। তখন কুলিং ফ্যানকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কাজ করতে হয়। দীর্ঘদিন এমন হলে প্রসেসর, হার্ডডিস্ক বা অন্যান্য হার্ডওয়্যারের ওপর চাপ পড়ে এবং যন্ত্রাংশের আয়ু কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
ছোটখাটো সমস্যা থেকেই যায়
ল্যাপটপ ব্যবহারের সময় অনেক ছোটখাটো সফটওয়্যার সমস্যা দেখা দেয়—যেমন ওয়াই-ফাই কাজ না করা, সাউন্ড সমস্যা, বা কোনো অ্যাপ ঠিকভাবে চালু না হওয়া। এসব সমস্যার অনেকটাই সাধারণ রিস্টার্ট দিলেই ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু ল্যাপটপ নিয়মিত বন্ধ না করলে এসব ত্রুটি থেকেই যায় এবং ধীরে ধীরে ব্যবহারকারীর ভোগান্তি বাড়ায়।
কী করা উচিত
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েক দিন পরপর ল্যাপটপ পুরোপুরি শাটডাউন বা অন্তত রিস্টার্ট দেওয়া ভালো। এতে র্যাম রিফ্রেশ হয়, অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ হয়, আপডেট সম্পন্ন হয় এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এর ফলে ল্যাপটপ দীর্ঘদিন ভালো পারফরম্যান্স দেয় এবং যন্ত্রের আয়ুও বাড়ে।

