আমাদের অনেকেরই অভ্যাস ফোনে ওয়াই–ফাই সব সময় অন রাখা। মনে হয়, এতে তো কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি এতটা নিরীহ নয়। আপনি স্মার্টফোন ব্যবহার না করলেও এটি আশপাশের ওয়াই–ফাই নেটওয়ার্ক স্ক্যান করতে থাকে। আর এই স্বয়ংক্রিয় স্ক্যানিং–ই অনেক সময় বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অটো–স্ক্যানিং কেন ঝুঁকিপূর্ণ?

ওয়াই–ফাই চালু থাকলে ফোন আশপাশের নেটওয়ার্ক খুঁজে বেড়ায়। অপরিচিত জায়গায় থাকলে এই স্বয়ংক্রিয় খোঁজাখুঁজির সুযোগ নিয়ে সাইবার অপরাধীরা সহজেই ভুয়া অ্যাক্সেস পয়েন্ট তৈরি করে ব্যবহারকারীর ডেটা চুরি করতে পারে। পিয়ার রিভিউড গবেষণায় দেখা গেছে, সব সময় সক্রিয় থাকা ওয়াই–ফাই স্ক্যানিং ডিভাইসকে ‘ফেক হটস্পট’ বা নকল নেটওয়ার্কের আক্রমণের সামনে আরও উন্মুক্ত করে তোলে।

এমন ভুয়া নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে গেলে ব্যবহারকারীর অজান্তেই পাসওয়ার্ড, বার্তা, ব্যাংকিং তথ্য কিংবা ব্রাউজিং ডেটা চুরি হয়ে যেতে পারে। এমনকি ফোনের স্বয়ংক্রিয় ওয়াই–ফাই অনুসন্ধান প্রক্রিয়া থেকেও কিছু তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি থাকে।


অপরিচিত জায়গায় ওয়াই–ফাই বন্ধ রাখার উপকারিতা

১. অনিরাপদ নেটওয়ার্কে স্বয়ংক্রিয় সংযোগ থেকে রক্ষা

ক্যাফে, রেলস্টেশন বা বিমানবন্দরের মতো স্থানে থাকা পাবলিক নেটওয়ার্ক অধিকাংশ সময়ই এনক্রিপশনবিহীন থাকে। ওয়াই–ফাই অন থাকলে ফোন অনুমতি ছাড়াই এসব নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করতে পারে। ওয়াই–ফাই বন্ধ রাখলে এই ঝুঁকি একেবারেই কমে যায়।

২. ভুয়া নেটওয়ার্কের ফাঁদ এড়ানো

সাইবার অপরাধীরা এমন হটস্পট তৈরি করে যে নামগুলো একেবারে আসল নেটওয়ার্কের মতো যেমন ‘Airport Free Wi-Fi’ বা ‘Hotel Guest Wi-Fi’। আগে যুক্ত থাকা নামের সঙ্গে মিল পেলে ফোন এগুলোকে পরিচিত মনে করে নিজে থেকেই সংযোগ স্থাপন করতে পারে। ওয়াই–ফাই বন্ধ রাখলে প্রতিটি সংযোগ ম্যানুয়ালি যাচাই করা যায়।

৩. ট্র্যাকিং ও নজরদারি কমে যায়

শপিংমল বা পরিবহনকেন্দ্রে অনেক সময় ওয়াই–ফাই সিগন্যাল পর্যবেক্ষণ করে মানুষের চলাচলের ধরন বিশ্লেষণ করা হয়। ফোন নেটওয়ার্কে যুক্ত না থাকলেও স্ক্যানিং সিগন্যাল থেকেই একটি ইউনিক পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব। ওয়াই–ফাই বন্ধ রাখলে এই ধরনের ট্র্যাকিংয়ের ঝুঁকি অনেক কমে।

৪. ব্যাটারি সাশ্রয়

ওয়াই–ফাই সব সময় চালু থাকলে ফোন বারবার নেটওয়ার্ক খুঁজতে গিয়ে অতিরিক্ত ব্যাটারি খরচ করে। অপ্রয়োজনীয় সময়ে এটি বন্ধ রাখলে ব্যাটারি সাশ্রয় হয় এবং ফোনের সার্বিক কার্যক্ষমতাও ভালো থাকে।


গোপনীয়তা রক্ষায় করণীয়

  • অটো–জয়েন বা স্বয়ংক্রিয় সংযোগ ফিচার বন্ধ রাখুন।

  • প্রয়োজন নেই এমন পুরোনো নেটওয়ার্ক তালিকা থেকে ডিলিট করুন।

  • বাইরে থাকলে সম্ভব হলে মোবাইল ডেটা বা বিশ্বস্ত VPN ব্যবহার করুন।

  • পাবলিক ওয়াই–ফাই দিয়ে কখনোই ব্যাংকিং বা সংবেদনশীল অ্যাকাউন্টে লগইন করবেন না।

  • যেকোনো নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার আগে নামের মিল যাচাই করে নিন।


কখন ওয়াই–ফাই অন রাখলে সমস্যা নেই?

বাড়ি বা অফিসের মতো নিরাপদ পরিবেশে ওয়াই–ফাই ব্যবহার করা সাধারণত ঝুঁকিমুক্ত। এসব নেটওয়ার্কে শক্তিশালী নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকে। মূল ঝুঁকি থাকে অপরিচিত স্থানে, যেখানে পাবলিক হটস্পট বেশি এবং সাইবার অপরাধীরা ডিভাইসের স্বয়ংক্রিয় আচরণ কাজে লাগাতে পারে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version