অ্যাপলের ম্যাকবুক সিরিজ সব সময়ই আলাদা জনপ্রিয়তা পেয়ে এসেছে। এর মধ্যে ম্যাকবুক এয়ারকে বলা হয় সবচেয়ে হালকা, সহজে ব্যবহারযোগ্য এবং বহনযোগ্য ল্যাপটপ। ২০২২ সালে বাজারে আসে MacBook Air M2 যা আগের এম১ ভার্সনের থেকে আরও শক্তিশালী, নতুন ডিজাইনসহ নানা উন্নত ফিচার নিয়ে এসেছে। তবে প্রশ্ন হলো, এই ল্যাপটপটি কি সত্যিই কেনা উচিত? নাকি এখনো এম১ বা অন্য মডেলেই ভালো অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে? চলুন একবার বিস্তারিতভাবে দেখি।
কেন কিনবেন MacBook Air M2?
১. শক্তিশালী M2 চিপ
MacBook Air M2-তে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যাপলের নিজস্ব M2 চিপ। এটি আগের এম১ চিপের তুলনায় প্রায় ১৮% দ্রুত CPU এবং ৩৫% দ্রুত GPU পারফরম্যান্স দেয়। যারা ভিডিও এডিটিং, কোডিং, ফটোশপ কিংবা হালকা থেকে মাঝারি লেভেলের ক্রিয়েটিভ কাজ করেন, তাদের জন্য এটি যথেষ্ট শক্তিশালী।
২. স্লিম ও হালকা ডিজাইন
এটি অ্যাপলের এখন পর্যন্ত তৈরি সবচেয়ে পাতলা ম্যাকবুকগুলোর একটি। ওজন মাত্র ১.২৪ কেজি। ফলে সহজেই ব্যাগে রাখা যায়, ভ্রমণে নিয়ে যাওয়া যায়। যারা ছাত্রছাত্রী বা অফিসে প্রতিদিন ল্যাপটপ নিয়ে যাতায়াত করেন, তাদের জন্য এটি দারুণ সুবিধাজনক।
৩. উন্নত ডিসপ্লে
M2 এয়ারে আছে ১৩.৬-ইঞ্চি লিকুইড রেটিনা ডিসপ্লে, যেখানে ৫০০ নিটস ব্রাইটনেস এবং P3 wide color gamut সাপোর্ট করে। ফলে রঙ আরও উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত দেখা যায়। ভিডিও দেখা, ফটো এডিট করা বা প্রেজেন্টেশনের কাজ সব ক্ষেত্রেই স্ক্রিন কোয়ালিটি একদম প্রিমিয়াম।
৪. দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি লাইফ
MacBook Air M2 একবার চার্জে সহজেই ১৫-১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাটারি ব্যাকআপ দিতে পারে, ব্যবহারভেদে। যারা সারাদিন ল্যাপটপ ব্যবহার করেন কিন্তু বারবার চার্জ দিতে চান না, তাদের জন্য এটি বড় সুবিধা।
৫. ফ্যানবিহীন ডিজাইন
এই ল্যাপটপে ফ্যান নেই, তাই কোনো শব্দ হয় না। একেবারেই নিঃশব্দে কাজ করা যায়। দীর্ঘ সময় কাজ করলেও সাধারণত গরম বেশি হয় না, যা অ্যাপলের চিপসেটের এনার্জি এফিশিয়েন্সির ফল।
৬. নতুন ডিজাইন ও কালার অপশন
পুরনো এয়ার মডেলের তুলনায় এটি স্কয়ার-এজ ডিজাইন পেয়েছে, যা দেখতে অনেকটা ম্যাকবুক প্রোর মতো। এছাড়া এসেছে নতুন কালার মিডনাইট ও স্টারলাইট, যা ব্যবহারকারীদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়।
কেন কিনবেন না MacBook Air M2?
১. দাম বেশি
সবচেয়ে বড় অসুবিধা হলো এর দাম। বাংলাদেশে বর্তমানে MacBook Air M2-এর দাম প্রায় ১,৫০,০০০ থেকে ১,৮০,০০০ টাকার মধ্যে (স্টোরেজ ও কনফিগারেশন অনুযায়ী)। একই দামের মধ্যে উইন্ডোজ ল্যাপটপে আরও বেশি স্টোরেজ, RAM, এবং Dedicated GPU পাওয়া যায়। তাই গেমিং বা হেভি গ্রাফিক্স কাজের জন্য উইন্ডোজ ডিভাইস অনেক সময় ভালো অপশন হতে পারে।
২. সীমিত পোর্ট
এই ল্যাপটপে মাত্র ২টি Thunderbolt/USB-C পোর্ট এবং ১টি হেডফোন জ্যাক আছে। যারা অনেক বেশি এক্সটারনাল ডিভাইস যুক্ত করতে চান (যেমন: পেনড্রাইভ, মাউস, প্রোজেক্টর, কার্ড রিডার), তাদের জন্য আলাদা হাব কিনতে হবে।
৩. ফ্যান না থাকায় সীমাবদ্ধতা
ফ্যানবিহীন ডিজাইন যেমন শব্দহীন, তেমনি এটি একটি সীমাবদ্ধতাও। কারণ হেভি ভিডিও এডিটিং বা দীর্ঘক্ষণ 4K রেন্ডারিং করলে ল্যাপটপ কিছুটা গরম হয়ে যায়, এবং পারফরম্যান্স থ্রটলিং হতে পারে।
৪. আপগ্রেড করা যায় না
ম্যাকবুক এয়ার এম২ কিনলে RAM বা স্টোরেজ পরে বাড়ানো যায় না। তাই শুরুতেই বেশি কনফিগারেশন (যেমন ১৬ জিবি RAM, ৫১২ জিবি SSD) নিলে দাম অনেক বেড়ে যায়।
৫. গেমিং-এর জন্য উপযুক্ত নয়
যদিও M2 চিপ দিয়ে কিছু গেম খেলা যায়, কিন্তু এটি মূলত গেমিংয়ের জন্য বানানো হয়নি। Dedicated গ্রাফিক্স কার্ড নেই বলে হাই-এন্ড গেমিং অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে না।
কারা কিনবেন?
-
যারা হালকা ও স্লিম ল্যাপটপ চান
-
যারা বেশি সময় ব্যাটারি ব্যাকআপ চান
-
যারা পড়াশোনা, অফিসের কাজ, ওয়েব ব্রাউজিং, প্রেজেন্টেশন বা মাঝারি লেভেলের ক্রিয়েটিভ কাজ করেন
-
যারা প্রিমিয়াম ডিজাইন ও অ্যাপল ইকোসিস্টেম (iPhone, iPad, AirPods ইত্যাদি) ব্যবহার করেন
কারা কিনবেন না?
-
যারা হেভি গেমিং বা হাই-এন্ড ভিডিও এডিটিং করেন
-
যারা বাজেট সীমিত, এবং একই দামে বেশি পারফরম্যান্স চান
-
যারা বেশি পোর্ট দরকার হয় (ডিভাইস কানেকশনের জন্য)
MacBook Air M2 একটি দুর্দান্ত প্রিমিয়াম ল্যাপটপ, বিশেষ করে যারা লাইটওয়েট, দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ ও দারুণ ডিসপ্লে চান তাদের জন্য। তবে এটি সবার জন্য নয়। যদি আপনি গেমার হন, বা হেভি প্রফেশনাল গ্রাফিক্স কাজ করেন, তাহলে ম্যাকবুক প্রো বা উইন্ডোজের হাই-পারফরম্যান্স ল্যাপটপ আপনার জন্য ভালো হবে। কিন্তু আপনি যদি ছাত্রছাত্রী, অফিস ব্যবহারকারী, কনটেন্ট রাইটার বা হালকা ভিডিও এডিটর হন তাহলে MacBook Air M2 হতে পারে আপনার সেরা সঙ্গী।
